চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ কখনো একা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। সমাজের প্রতিটি গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি দেশ এগিয়ে যায়—এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশ, যেখানে সহাবস্থান ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে চট্টগ্রাম মহানগরসহ রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই অনুদান প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের একটি প্রতীক।
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বাংলাদেশ একটি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে এবং নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে। এই বৈচিত্র্যই বাংলাদেশের শক্তি। সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হলে সবাইকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির এই সময়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দুর্বল না করে। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে যেন মানবিক মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা হারিয়ে না যায়—সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা এবং অশুভ বর্জনের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে উৎসবমুখর পরিবেশে সচেতন ও সুচিন্তিতভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ববি বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া। বক্তারা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সামাজিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে মোট ১৩২টি বৌদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে ১৪ লাখ ৫২ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলেন, এই অনুদান তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ সুদৃঢ় করে।
আকাশজমিন / আরআর