ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে: খামেনি


  • আপলোড সময় : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:০১ পিএম

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি ঘিরে যখন উত্তেজনা চরমে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তা দেন তিনি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এই তথ্য জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে কিংবা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা বন্ধ না করলে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌ ও সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে করে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার বক্তব্যে বলেন, ট্রাম্প নিয়মিতই দাবি করেন যে তিনি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছেন। কিন্তু এসব দেখে ইরানি জাতি ভয় পায় না। ইরানি জনগণ কখনোই এমন হুমকিতে বিচলিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইরান কখনোই আগ্রাসনের সূচনা করে না এবং কোনো দেশকে আক্রমণ করতে চায় না। তবে কেউ যদি ইরানের ওপর আক্রমণ কিংবা হয়রানি চালায়, তাহলে ইরানি জাতি তার কঠোর ও শক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। ইরানের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নাকচ করেনি তেহরান। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ন্যায্য ও সম্মানজনক আলোচনায় প্রস্তুত, তবে এমন কোনো আলোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না যা ইরানের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে করা হয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ এই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। এসব যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করেই মূলত আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এটি দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

ইরানের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য তারা যাচাই করেছে। যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সূত্র: রয়টার্স।


এ সম্পর্কিত আরো খবর