রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বিভিন্ন ধরনের জাল ও ব্যাটারির সাহায্যে বিদ্যুতায়িত করে মাছ শিকারের ফলে যমুনা নদীর মৎস্য সম্পদ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অবাধ ও বেপরোয়া মৎস্য নিধনের কারণে নদীর স্বাভাবিক মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। তারা দ্রুত এই অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যমুনা নদীর বিভিন্ন অংশে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ গুলিজাল, কোনাজাল, চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যাটারির সাহায্যে নদীর পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরার ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পদ্ধতিতে মাছ ধরার ফলে কেবল বড় মাছ নয়, বিপুল পরিমাণ পোনা ও ছোট প্রজাতির মাছও মারা যাচ্ছে, যা নদীর পানিতে মিশে নষ্ট হচ্ছে।
বিশেষ করে গুলিজাল ও ব্যাটারি চালিত বিদ্যুতায়িত মাছ শিকারের কারণে যমুনা নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মাছ ধরা না পড়লেও বিদ্যুতের শকে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ পানির নিচেই মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে নদীর পরিবেশ ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও যমুনার বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও কোনাজাল ব্যবহার করে জাটকা নিধন অব্যাহত রয়েছে। আইন অমান্য করে এই জাটকা নিধনের ফলে ইলিশসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, এভাবে মাছ নিধন চলতে থাকলে অচিরেই যমুনা নদীতে মাছের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীরা জীবিকা হারাবেন।
কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের সীমানা সংলগ্ন ভাটিতে পার্শ্ববর্তী রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা এলাকার যমুনা নদীতে প্রকাশ্যে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত গুলিজাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন এমন কর্মকাণ্ড চললেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করেছি। তারা নিষেধ না মানলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ জানান, ব্যাটারি চালিত বিদ্যুতায়িত মৎস্য শিকারের বিষয়ে আমরা অবহিত হয়েছি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকৃত মৎস্যজীবীরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ না হলে যমুনা নদীর মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে অবৈধ জাল জব্দ, বিদ্যুতায়িত মাছ শিকার বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।