ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করা শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে কোটচাঁদপুর বাজারপাড়ার হাইস্কুল সড়কের নিজ বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
অনন্য গাঙ্গুলী ছিলেন কোটচাঁদপুর বাজারপাড়ার সাবেক প্রভাষক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলীর ছেলে। তার মা রাধা রানী গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার রাতে অনন্য ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন এবং আগের মতোই স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। রাতের খাবার খেয়ে শোয়ার ঘরে চলে যান। রবিবার সকালে তাকে ডেকে নাশতা খাওয়ার জন্য ডাকলেও সাড়া না পাওয়ায় জানালা দিয়ে দেখা যায়, তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
অনন্য গাঙ্গুলী ছাত্রজীবনে মেধার পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন। পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে তিন পরীক্ষাতেই মেধার প্রমাণ দিয়ে বৃত্তি পেয়েছিলেন। তবে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণে কলেজে পড়াশোনা প্রায় পাঁচ বছর বন্ধ ছিল। দশম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসে নিয়মিত ছিলেন না। এসএসসি পরীক্ষার আগে নির্বাচনী পরীক্ষাতেও ফল ভালো হয়নি। তবে ২০১৬ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং যশোর বোর্ড থেকে সাধারণ বৃত্তিও পেয়েছিলেন।
২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে অনন্য গাঙ্গুলী জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। তার এই সাফল্য পরিবারের জন্য গর্বের বিষয় ছিল।
পরিবার ও স্থানীয়রা শোকের ছায়ায় রয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে তার অকাল প্রয়াণে দুঃখ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর