সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মচারীরা।
বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী দাবী আদায় ঐক্য পরিষদ তাড়াশ উপজেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন কাজল ও সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তাড়াশ উপজেলার সকল সরকারী অফিসের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি চলাকালে কর্মচারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন কাজল বলেন, ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন সারা দেশের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের প্রাণের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে এই শ্রেণীর কর্মচারীরা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে পরিবার পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৯ম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করতে হবে। এই দাবিগুলো কোনো নতুন দাবি নয়, বরং কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার। বারবার দাবি জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
জাহাঙ্গীর হোসেন কাজল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকেও যেতে বাধ্য হবেন কর্মচারীরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা সরকারী সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত তাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি বিবেচনা করবে।
কর্মসূচি চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে কর্মচারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন এবং পরবর্তী নির্দেশনার জন্য কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবেন বলে জানান।