ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো ভূমিকম্প


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:২৯ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো জেলার ভেতরে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল শনাক্ত হয়েছে। উপকূলীয় এই জেলায় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে ৪.১ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া এলাকায় এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। গভীরতা বেশি হওয়ায় কম্পনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদ জুলফিকার আলী রিপন জানান, ভূমিকম্পটি সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায় হয়েছে। রিখটার স্কেল অনুযায়ী এর মাত্রা ছিল ৪.১ এবং এটি ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে রেকর্ড করা হয়। গভীরতা বেশি থাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব তুলনামূলকভাবে মৃদু ছিল। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় এর আগেও ভূমিকম্প অনুভূত হলেও কখনো জেলার ভেতরে কেন্দ্রস্থল শনাক্ত হয়নি। তাই এই ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাউছার রেজা বলেন, ভূমিকম্প মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে ঘটে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত, নদীর পানি বৃদ্ধি বা ভূমির অতিরিক্ত চাপ ভূ-পৃষ্ঠের দুর্বল এলাকায় কম্পনের প্রভাব বাড়াতে পারে।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় মূলত ভূ-অভ্যন্তরে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ নির্গত হয়। আবহাওয়া পরিবর্তন ভূমিকম্প সৃষ্টি করে না, তবে ভূমিকম্পের পর ভূমির প্রতিক্রিয়া আবহাওয়া ও পরিবেশগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

গাউছার রেজা আরও বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ভূতাত্ত্বিকভাবে পলিমাটি দ্বারা গঠিত সমতল ভূমি, যা গাঙ্গেয় বদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত। জেলার মধ্য দিয়ে কপোতাক্ষ, মরিচাপ, খোলপেটুয়া, বেতনা, রায়মঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা, ইছামতি ও কালিন্দী-যমুনাসহ বহু নদী প্রবাহিত হয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে শ্যামনগর উপজেলা, সুন্দরবন ও জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত।

তিনি উল্লেখ করেন, পলিমাটি ও নদীবহুল এলাকায় মাটি তুলনামূলকভাবে নরম হওয়ায় ভূমিকম্পের সময় কম্পনের অনুভূতি বেশি হতে পারে। তবে ভূমিকম্পের গভীরতা বেশি হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সাধারণত কম থাকে। ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ভূমি দেবে যাওয়া (লিকুইফেকশন) ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাশাপাশি ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (EMSC) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) ভূমিকম্পটির রেকর্ড সংগ্রহ করেছে।

এদিকে, ভূমিকম্পের পর কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে যান সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুজ্জামান। তিনি জানান, ভূমিকম্পের পর সাতক্ষীরা জেলার কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রস্থল এলাকায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ইউনিটগুলোকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্প একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হলেও সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ভূমিকম্প চলাকালে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরের ভিতরে থাকলে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে মাথা ঢেকে আশ্রয় নিতে হবে। জানালা, কাচ, আলমারি, ঝুলন্ত ফ্যান ও ভারী বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে এবং এ সময় লিফট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি।

বাইরে অবস্থান করলে খোলা জায়গায় সরে গিয়ে ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ও বিলবোর্ড থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যানবাহনে থাকলে গাড়ি থামিয়ে ভিতরে অবস্থান করতে হবে।

নদী ও উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় নদীর পাড়, বাঁধ ও সেতু থেকে দূরে সরে গিয়ে নিরাপদ উঁচু স্থানে অবস্থান করা জরুরি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর