মোঃ আশরাফুল ইসলাম সুমন , কটিয়াদী উপজেলা প্রতিনিধি:
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের যুব সমাজ পরিবর্তন চায়, তারা বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারীর ইস্যুকে সামনে রেখে জামায়াতের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ কখনও চোরাই পথে নির্বাচন মেনে নেবে না, তাই জামায়াতে ইসলামী জনতার প্রকৃত রায়কে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।
তিনি দেশের উন্নয়ন ও যুব সমাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, জামায়াত একটি মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাস করে, যেখানে সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো একটি স্বাধীন ও সম্মানজনক বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য। তিনি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে যুবসমাজের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বুকের রক্ত দিয়ে তারা সব ধরনের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।
কিশোরগঞ্জ জেলার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হওয়ায় তিনি কৃষির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, কিশোরগঞ্জে শিল্প নেই, তাই কৃষিকে শিল্পে রূপান্তর করাই প্রয়োজন। তিনি আশ্বাস দেন, দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ ফেরত আনলে উন্নয়ন বাধাহীন হবে।
ডা. শফিকুর রহমান ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো বাধা বা অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আর কেউ দুর্বৃত্ত বা অন্যায়ভাবে ভোটাধিকার হরণ করতে পারবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতি পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, তারা জামায়াতের সরকার নয়, ১৮ কোটি মানুষের সরকার চান।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী, কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী প্রফেসর ডা. কর্নেল জেহাদ খান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী এডভোকেট রোকন রেজা, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন এবং কৃষ্ণচন্দ্র বসাক।
তাছাড়া, কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, উপজেলা জামায়াতের মানবসম্পদ বিভাগের সেক্রেটারি মাস্টার ওয়াহিদুল হক, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মুস্তাকিম হাসানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরুর আগে সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক জনসভায় যোগ দেন। জনসভা প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। হাজারো মানুষের উপস্থিতি ও উদ্দীপনায় কটিয়াদী যেন এক বিরাট জনসমুদ্র হয়ে উঠে।