মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩(সদর-গজারিয়া) আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত (কোদাল প্রতীক) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ মো. শিমুল। জনা যায়, শেখ মো. শিমুল মুন্সীগঞ্জ শহরের পঞ্চসার ইউনিয়নের নয়াগাঁও পশ্চিম পাড়া এলাকার
শেখ মো. সামছুদ্দিনের ছেলে।
শেখ মো. শিমুল প্রতিবেদককে জানান, তার ছোটবেলা থেকেই শুভানুধ্যায়ী ও পারিবারিক ভাবেই সমাজতান্ত্রিক চিন্তার ভাবধারায় তাকে আকৃষ্ট করেন। জেলার তৎকালীন শ্রমিক নেতা কমরেড বাদশা খাঁ, কমরেড এ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান মানিক দা সহ বেশ কয়েকজন নেতা কর্মীর সংস্পর্শে আসেন এবং তাকে আরো বেশী বাম চিন্তায় আকর্ষন করে। তিনি ৯০ দশকে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীতে যুক্ত হন।
পরে জেলা মাধ্যমিক স্কুল কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী'র জেলা কমিটির সদস্য এবং এরি ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী'র জেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে পরবর্তীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির প্রথমে প্রাথমিক সদস্য পরে পূর্নাঙ্গ সদস্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ দেশের অপরাপর বাম রাজনৈতিক দল মিলে অর্থাৎ ১১ দলীয় বাম জোট দেশের গণমানুষের দাবীদাওয়ার আন্দোলন সংগ্রামে ব্যপক ভূমিকা রাখে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি অনেক হামলা, হুমকি সহ নানা রকমের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন। কখনও রাজনীতি থেকে সড়ে দাঁড়াননি। তার অসীম সাহস ও সকলের ভালোবাসায় এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে মেহনতী শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানবিক রাষ্ট্র গঠনে, প্রলেতারিয়াতের মুক্তি লক্ষ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি শিক্ষা জীবনে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজ থেকে বিএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি এখন আইন বিষয়ে পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ(পিইউবি) থেকে এলএলবি শেষ বর্ষে লেখাপড়া করছেন। রাজনৈতিক পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতাও করেন।
তিনি মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় একসময়ের জনপ্রিয় "সাপ্তাহিক মুন্সীগঞ্জ" পত্রিকায় ১৯৯৫ সাল থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় অপর আরেকটি "সাপ্তাহিক মুন্সীগঞ্জ সংবাদ" পত্রিকায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে যুক্ত হন। এরি ধারাবাহিক পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে জাতীয় "দৈনিক খবরপত্র" পত্রিকায় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন।
পরে "দৈনিক আমাদের অর্থনীতি" এরি পাশাপাশি তিনি স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল "বৈশাখী টেলিভিশন" পরে টেলিভিশন চ্যানেল "চ্যানেল এস" এবং "সাপ্তাহিক একতা" পত্রিকায় পরে ২০০৭ সালে স্বনামধন্য প্রথম নিউজ চ্যানেল "সিএসবি নিউজ" চ্যানেলে এর পাশাপাশি "দৈনিক মানবকন্ঠ" পত্রিকায়, তৎকালীন জনপ্রিয় অনলাইন "বাংলামেইল২৪ডটকম", "লালসবুজেরকথা" ও "ঢাকাপ্রকাশ' এ একই পদে দ্বায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি "দৈনিক ভোরের পাতা" ও জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল "আরটিভি" তে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি পদে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়াও তিনি "মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব" এর সাবেক নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিমূলক কাজও চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচিত হলে, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করে যাবে,নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার সিন্ডিকেট ভাঙবে,কৃষক ও ,শ্রমিকের ন্যায্য মূল্য ও মজুরি নিশ্চিত করবে,প্রবাসী ভাই-বোনের পরিবারের সম্পত্তি জবরদখ ও সকল হয়রানি বন্ধ ও তাদের মর্যাদাপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করবে, তরুণদের কর্মসংস্থান ও একটি মানবিক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে লড়বে,ভাঙা রাস্তাঘাট নয়, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান, লোডশেডিং নয়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ,ভোগান্তি নিরসনে অল্প সময়ে ঢাকা যেতে মুন্সীগঞ্জে মেট্রোরেল নির্মাণ, গজারিয়ার সাথে সড়ক যোগাযোগে মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণ,দখলবাজি নয়, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করণ,মাদক নয়, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ গঠন, মব নয়, আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য আমার অগ্রাধিকার প্রদান,স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার, ওষুধ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা,স্কুল–কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন করা,একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলবাজি ও সহিংসতা বন্ধ করা,রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ করে নিরাপত্তা ও মানবিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
আকাশজমিন / আরআর