ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সিরাজগঞ্জে জনপ্রিয় হচ্ছে সূর্যমুখী চাষ


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:২২ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ    

সিরাজগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও সিরাজগঞ্জকে শস্যভাণ্ডারের জন্য পরিচিত করা হয়, তবুও এখানে প্রতিবছরই সূর্যমুখীর চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় ক্রমশ বেশি কৃষক এই ফুলের চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের ফসলের মাঠে সূর্যমুখী ফুলের ফুলে পুরো মাঠ সেজেছে। সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রতিদিনই ভ্রমণকারীরা আসছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলা সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, তাড়াশ, কাজীপুর, উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলায় মোট ২৭০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদর, বেলকুচি ও উল্লাপাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ফুলের বীজ বিতরণ করা হয়। প্রতিটি গাছে একটি করে ফুল আসে। বীজ বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। হেক্টর প্রতি ১.৫ টন পর্যন্ত ফলন হয়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরের ইউসুফ আলী বলেন, যমুনার চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। তিনি ৪ বিঘা জমিতে এবার সূর্যমুখী ফুল চাষ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৪ হাজার টাকা খরচ করে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন।


সদর উপজেলার বহুলী ইউপির ধীতপুর আলাল গ্রামের কৃষক আলী আকবর জানিয়েছেন, তিনি গত দুই বছর ধরে সূর্যমুখী ফুল চাষ করছেন। এবারও ১ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছেন। তাঁর ক্ষেত ফুলে ফুলে ভরে গেছে। জমিতে প্রতিটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তবে তিনি গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভ আশা করছেন।

কাজীপুর উপজেলার ভানুডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, আগে তিনি ধান, গম ও ভুট্টার চাষ করতেন। খুব বেশি লাভ হয়নি। গত ৫ বছর ধরে ফুল চাষ করছেন। ধান ও গমের তুলনায় এতে বেশি লাভ হয়। ভবিষ্যতেও তিনি ফুলের চাষ অব্যাহত রাখবেন। সূর্যমুখী ফুলের চাহিদা ভালো এবং ফলনও ভালো হয়।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সূর্যমুখী চাষ করে শুরু থেকেই এ জেলার কৃষকরা সফলতার মুখ দেখছেন। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তবে তারা সূর্যমুখী চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু জাফর মো. আহসান শহীদ সরকার বলেন, এ জেলার জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। এবছর সূর্যমুখী ফুলের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮০ হেক্টর, যা থেকে ২৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। কৃষকরা এবার ভালো ফলনের আশা করছেন। সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে হাঁস-মুরগির খাবার প্রস্তুত করা যায় এবং তেলের উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে থাকা লিনোলিক এসিড হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। কৃষি বিভাগ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে সূর্যমুখী চাষ বাড়াতে কাজ করছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর