আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার মামলা সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যদিও মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এই তদন্তের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে, তবুও বিষয়টি এত সহজে মিটে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন, এ বিতর্ক পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
তবে বিচার বিভাগের তদন্ত শেষ হলেও কংগ্রেসের বিশেষ তদন্ত কমিটি এবং ভুক্তভোগীদের অনড় অবস্থানের কারণে এটি হোয়াইট হাউসের জন্য একটি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ স্পষ্ট করেছেন, কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নতুন কোনো মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিপুল পরিমাণ ইমেল, ছবি ও নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এগুলো কাউকে নতুন করে অভিযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
যাইহোক, বিচার বিভাগের এই নথিতে সন্তুষ্ট নয় মার্কিন প্রতিনিধি সভা। রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এই ইস্যুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে তলব করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এসব বাদ দিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই দাবি পুরোপুরি নির্ভুল নয়। প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ছয় হাজারেরও বেশিবার এসেছে। যদিও নব্বইয়ের দশকের পর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল, ট্রাম্প দাবি করেন। ২০১১ সালের একটি ইমেল নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যেখানে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ট্রাম্পের বিষয়টি এখনো জনসমক্ষে আসেনি।
শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নয়, এই নথির কারণে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিত্বরাও বিপাকে পড়েছেন। বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের নামের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং ল্যারি সামারসের মতো ব্যক্তিরাও এ সংযোগের কারণে সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এপস্টেইন নথির এই প্রকাশ সমাজ ও রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের পরামর্শ অনুসারে দেশবাসীকে বিষয়টি পেছনে ফেলে সামনের কাজে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও নথিতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনগত প্রভাব পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়।
আকাশজমিন / আরআর