আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। বুধবার ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স ২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই তথ্য জানান। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এই খবর প্রকাশ করেছে।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৫ হাজার। এছাড়া বিপুলসংখ্যক মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখা হয়েছে। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, এই তথ্য শুধুমাত্র সরকারী হিসেবে পাওয়া সংখ্যানুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক-ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে উভয় পক্ষ মিলিয়ে মোট সামরিক হতাহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে এবং ইউক্রেনের ক্ষেত্রে সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখের মধ্যে।
সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, চার বছরের সংঘাতের মধ্যে রাশিয়ার প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, ইউক্রেনের পক্ষেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, তবে জেলেনস্কি আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৫ হাজার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই যুদ্ধ কেবল সামরিক বাহিনীকে নয়, বেসামরিক জনগণকেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অন্তত ২ হাজার ৫০০ বেসামরিক নিহত হয়েছেন এবং ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত শুধুমাত্র সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাবই নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও তীব্রভাবে তৈরি করছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা অপরিহার্য।
বিশ্ব সম্প্রদায় যুদ্ধের প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। ইউক্রেনীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত সেনাদের পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবু, চলমান সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিপদে পড়েছেন।
যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি মনিটর করছেন। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, সামরিক এবং বেসামরিক হতাহত সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, জাতিসংঘ এবং সিএসআইএসের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এই সংঘাতের মানবিক ও সামরিক ক্ষতি বিশাল এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর