ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে পরমাণু ইস্যু ঘিরে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করেছে। এমন একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা।
আলোচনা শেষে নিজের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইরান নিয়ে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে ইরান চুক্তি করতে মরিয়া। আমরা আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছি।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, আদৌ দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না তা নিয়ে।
তবে আলোচনার ইতিবাচক আবহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অবস্থান বজায় রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওমানে আলোচনা চলাকালীনই ইরানকে লক্ষ্য করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই আদেশের মাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, যেসব দেশ ইরান থেকে পণ্য কিনবে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করবে। এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, আলোচনার পাশাপাশি চাপের কৌশল থেকেও সরে আসছে না ওয়াশিংটন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মাস্কাটের বৈঠকে মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইস্যু তোলা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ইরানি প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মুখে তারা নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। তবে এর পরিবর্তে অন্য কোনো প্রস্তাব বা বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনায় আনা হলে সেখানে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনার কথা তারা উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনার ইতিবাচক ইঙ্গিত, অন্যদিকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ—এই দ্বিমুখী কৌশল ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচিত কৌশলেরই প্রতিফলন। আগামী সপ্তাহের বৈঠককে তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আদৌ কমবে কি না।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, রয়টার্স