ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

তিন বছরের শিশু হত্যা, মা ও পরকীয়া প্রেমিক গ্রেফতার


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৪৪ পিএম

গোপালগঞ্জ সদরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়ার জেরে নিজের তিন বছরের শিশু সন্তানকে হত্যা করে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেতু বেগম (২৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। নিহত শিশুর মরদেহ ২০ দিন পর উদ্ধার করা হয়। মা সেতু বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জ সদরের গোবরা নিলারমাঠ এলাকার সেতু বেগমের স্বামী রুবেল শেখের বাড়ি থেকে শিশু ফারিয়া (৩) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, শিশুটি ১৭ জানুয়ারি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ বাসার ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাস আগে সেতু বেগমের সঙ্গে টিকটকে পরিচয় হয় ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার বাড়ৈইহাট গ্রামের মিরাজ মোল্লার সঙ্গে। এরপর তারা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় সেতু বেগম তার তিন বছরের কন্যাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর শিশুর মরদেহ বাসার ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরকীয়া প্রেমিক রুবেল শেখের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পর ১৯ দিন অতিবাহিত হলে সেতু বেগম তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞেসা করলে সেতু বেগম স্বীকার করে যে তিনি রুবেল শেখের সহায়তায় মেয়েকে হত্যা করেছেন এবং মরদেহ লুকিয়ে রেখেছেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করেন।

পুলিশ সেতু বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমাদের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"

এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটি একটি মর্মান্তিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা। শিশুদের নিরাপত্তা ও পরিবারের দায়িত্বের ওপর পুনর্বিচার করার প্রয়োজনীয়তা পুনরায়浮ূর্ত হয়েছে।

নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর