সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার শিক্ষার্থী মোঃ নাহিদ হাসান। দেশের শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ ৫৪তম মেধা স্থান অর্জনের পাশাপাশি তিনি আরও ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
নাহিদ শ্যামনগর উপজেলার শংকরকাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শিক্ষক দম্পতি মোঃ হুমায়ুন কবির ও নাসিমা পারভীন খুকুর সন্তান। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তার পড়াশোনায় ধারাবাহিক সাফল্যের নজির রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষকরা।
২০১৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতেই প্রথম স্থান অর্জন করেন নাহিদ। ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় তিনি ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন।
২০২৩ সালে নকিপুর সরকারি হরিচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ+)সহ বোর্ড বৃত্তি অর্জন করেন তিনি। এরপর ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে ২০২৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় নাহিদ বুয়েট ছাড়াও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ ৫৯তম, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ ৬৬তম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ ১০০তম, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (মিস্ট)-এ ১১৩তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি ভার্সন)-এ ৫১১তম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এ ৩০৫তম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ১৭৪তম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ১১০তম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এ ১৫৫তম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ ১৭৭তম মেধা স্থান অর্জন করেন।
নিজের সাফল্যের বিষয়ে নাহিদ বলেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত প্রস্তুতি, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং প্রতিটি পরীক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা তাকে এই অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
তার পরিবার জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মশৃঙ্খলা ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতিই নাহিদের সাফল্যের মূল ভিত্তি। শিক্ষক পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ ও শিক্ষামূল্যবোধ তার শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।