ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের আস্থা অর্জন, নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির পক্ষ থেকে ৩৫ প্লাটুন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৯ জানুয়ারি থেকে সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলার মোট ২১টি উপজেলায় ১৬টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে প্রায় সাতশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ৩৫ প্লাটুন বিজিবি ফোর্স দায়িত্ব পালন করছে। এই ফোর্স নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনী আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এখন পর্যন্ত ৩৪০টি নিয়মিত টহল পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ৫০টিরও বেশি যৌথ অপারেশন চালানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১৭০টির অধিক অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
নির্বাচন ঘিরে সীমান্তবর্তী ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা করছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, অপারেশন সক্ষমতা বাড়াতে প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বডি ওর্ন ক্যামেরা, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, আধুনিক মানের রায়ট কন্ট্রোল গিয়ার সেট এবং নন-লিথ্যাল অস্ত্র। এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে হুমকি প্রতিরোধ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, আধিপত্য বিস্তার রোধ এবং জনমনে আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা দিন ও রাতব্যাপী নিরবিচ্ছিন্ন টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যে কোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিজিবির দায়িত্ব পালন কার্যক্রমে সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা থেকে মোট ৩৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও ম্যাজিস্ট্রেসি সহায়তা প্রদান করছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে এই ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এই সমন্বিত ও সতর্ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
আকাশজমিন / আরআর