ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

বিএনপির জনসভা বলে কথা: আমতলীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটি!


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:৫০ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লার আমতলী পৌরসভা মাঠে রবিবার বিকেল চারটায় জনসভা শুরু হয়। জনসভার কারণে আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘন্টা আগেই, অর্থাৎ দুপুর দুইটায় অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত বিদ্যালয় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত পাঠদান করে। তবে রবিবার দুপুর দুইটার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটক তালাবদ্ধ এবং প্রধান শিক্ষকসহ কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিল্লুর রহমান জানান, বিদ্যালয় পাশেই বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসারের অনুমতি নিয়ে জনসভার কারণে বিদ্যালয় আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক এবং স্থানীয়রা আপত্তি জানাচ্ছেন, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর।

উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মোসাঃ শাহিনুর আক্তার বলেন, “দুপুর আড়াইটার পর বিদ্যালয় বন্ধ করার অনুমতি দিয়েছি, কিন্তু শিক্ষকদের ছুটি দেয়ার অনুমতি দেননি।” তিনি আরো জানান, শিক্ষকদের অনুপস্থিতির জন্য তদন্ত করা হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিউল আলম স্পষ্ট করে বলেন, “জনসভার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনে নিয়েছি এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা আশা করছেন শিক্ষা প্রশাসন কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টিপাত করবে যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটানো না হয়।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক জনসভা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজের মাঝে সুষ্ঠু সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটানোর জন্য প্রশাসনিক তদারকি জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জনসভা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অধিকাংশের বক্তব্য হলো, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো প্রকার ক্ষতি হলে তা মেনে নেওয়া যায় না।

শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের কর্তব্য বলেও দাবি করেছেন অনেকে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর