প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘কোয়ারেন্টাইন’ বা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন করায় ভারত মহাসাগরে একটি বিশালাকৃতির ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ‘অ্যাকুইলা ২’ নামের এই ট্যাংকারটি ভেনেজুয়েলা থেকে চীনের একটি বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করছিল বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাহাজটি জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্যারিবিয়ান সাগর থেকেই অ্যাকুইলা ২-কে নজরদারিতে রেখেছিল মার্কিন নৌবাহিনী। দীর্ঘ সময় অনুসরণের পর ভারত মহাসাগর এলাকায় পৌঁছালে উপযুক্ত মুহূর্তে অভিযান চালিয়ে জাহাজটি জব্দ করা হয়।
এক্সে দেওয়া পোস্টে পিট হেগসেথ বলেন, “যখন যুদ্ধ বিভাগ (যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে ঘোষণা দেয়, তখন তা যথার্থভাবেই দেয়। সোমবার ভারত মহাসাগর অঞ্চলে রাতব্যাপী একটি অভিযানের মাধ্যমে অ্যাকুইলা ২ নামের ট্যাংকার জাহাজটি জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার জাহাজগুলোকে কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অ্যাকুইলা ২ সেই নির্দেশ অমান্য করে এগিয়ে যাচ্ছিল। মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটিকে নিয়মিতভাবে অনুসরণ করছিল এবং উপযুক্ত সময়ে অভিযান চালিয়ে সেটি জব্দ করা হয়েছে।”
পিট হেগসেথ তার পোস্টে আরও কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “এই পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই, এমন কোনো জাতি নেই—যারা যে কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছামতো সবকিছু বাস্তবায়ন করতে পারে। আকাশপথ হোক, স্থলপথ হোক কিংবা জলপথ—আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী আপনাদের খুঁজে বের করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। আমাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার অনেক আগেই আপনাদের জ্বালানি ফুরিয়ে যাবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যারা মার্কিন শক্তিকে তাচ্ছিল্য করে এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক অঞ্চলে নিজেদের অধিকারের অপব্যবহার করে, তাদের প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান সবসময় কঠোর।” তার এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বার্তা আরও জোরালো হলো। একই সঙ্গে চীনের দিকে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে নজরদারি ও বাধা আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত মহাসাগরে এ ধরনের অভিযান বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যাকুইলা ২ জব্দের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান তেল পরিবহনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।
আকাশজমিন / আরআর