অনলাইন রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার পূর্বাচল নীলা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর প্রায় ৫টার দিকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত নীলা মার্কেট চত্বরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে স্থানীয়রা আগুনের শিখা দেখতে পান এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুনের বিস্তার রোধে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আশপাশের দোকান ও স্থাপনাগুলোতে পানি ছিটিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন।
তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই মার্কেটের দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি রেস্টুরেন্ট এবং একটি মুদি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দোকানগুলোর ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ফ্রিজ, খাদ্যপণ্য, রান্নার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থসহ অধিকাংশ মালামাল আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, তাদের কয়েক বছরের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ম্যানেজার আতিকুল ইসলাম বলেন, ভোর সোয়া ৫টার দিকে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আগুন আশপাশের বড় অংশে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পূর্বাচল আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করেন। পাশাপাশি রূপগঞ্জ থানা পুলিশও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগুন লাগার সময় মার্কেটের অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় তারা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগুনের উৎস এবং ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
সব মিলিয়ে, পূর্বাচল নীলা মার্কেটে এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হলেও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আকাশজমিন
/ আরআর