ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বগুড়ার ৭টি আসনে বিএনপির সব জয়


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১১:৫২ এএম

বগুড়ার নির্বাচনী ময়দানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পুরো দাপট দেখিয়েছে। জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ছয়টিতে বিপুল ভোটে এবং একটি আসনে তুলনামূলক কম ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। সবগুলো আসনে বিএনপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। ভোটাররা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

বগুড়ার নির্বাচনী ছয় আসনের ফলাফল নিম্নরূপ:

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা):
বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম ১ লাখ ১২ হাজার ৯২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. শাহাবুদ্দিন দাঁড়িপাল্লা ৫৬ হাজার ৯৩৩ ভোট পান। এই আসনে বিজয় বিএনপির শক্তিশালী সমর্থন প্রমাণ করে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ):
বিএনপির মীর শাহে আলম ৫২ হাজার ৭০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। মোট ভোট ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা ৯২ হাজার ৪৩৩ ভোট পান। এ আসনে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রমাণ করেছে।

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি):
বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নূর মোহাম্মদ দাঁড়িপাল্লা ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট পান। ভোট ব্যবধান ১৬ হাজার ৩৮০। এই ব্যবধান প্রমাণ করে বিএনপির দৃঢ় সমর্থন।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম):
বিএনপির মোশাররফ হোসেন ৪৬ হাজার ভোট ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৪। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা ১ লাখ ৮ হাজার ১৬৫ ভোট পান। ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি এবং ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৩।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট):
বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. দবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ভোট পান। ভোট ব্যবধান ১ লাখ ৫ হাজার ৫১২। এটি বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাবকে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত করে।

বগুড়া-৬ (সদর):
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট পান। জয়ের ব্যবধান ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোট। এই জয় প্রমাণ করে বিএনপির নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা।

বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী):
বিএনপির মোরশেদ মিল্টন ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট পান। ভোট ব্যবধান প্রমাণ করে বিএনপির শক্তিশালী সমর্থন।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, বগুড়ার সাতটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এককভাবে জয়লাভ করেছেন। প্রতিটি আসনের ফলাফলে বিএনপির প্রাধান্য স্পষ্ট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সব আসনে উপস্থিত ছিলেন। এই নির্বাচনে ভোটাররা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করেছেন।

নির্বাচনের পর বিজয়ীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তারা নির্বাচিত এলাকার মানুষের কল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন ও সার্বিক নীতি বাস্তবায়নে মনোযোগ দেবেন। স্থানীয় প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে।

সার্বিকভাবে বগুড়ার নির্বাচনী ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান ও নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে। এটি আগামী দিনগুলিতে দলের স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর