ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৫১ দলের মধ্যে ৪২ দলের কেউ জেতেনি


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:০৮ পিএম

দেশব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তবে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ৫১ দলের মধ্যে ৪২ দলের কোনো প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেননি। মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে বড় দলগুলোর প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হলেও এখন পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে ২৯৭টির। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী বিএনপি সর্বাধিক ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জয়লাভ করেছে ছয়টি আসনে। এ তিনটি দল মিলেই অধিকাংশ আসনে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জয় পেয়েছে দুটি আসনে। ফলে মোট ৯টি রাজনৈতিক দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও জয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও তাদের সংখ্যা এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ ফলাফল সংক্রান্ত এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল নিয়ে গেজেট প্রকাশ আপাতত স্থগিত থাকবে। এছাড়া একজন প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ পরে অনুষ্ঠিত হবে।

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, অংশগ্রহণকারী ৫১ দলের মধ্যে ৪২টি দল কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি। অনেক দল শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ, জোটভিত্তিক নির্বাচন এবং কৌশলগত ভোটিংয়ের কারণে ছোট ও নতুন দলগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। ভোটাররা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীর দিকেই ভোট দিয়েছেন, ফলে ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এতে ছোট দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা, সীমিত প্রচার-প্রচারণা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া জোট রাজনীতির প্রভাবে অনেক আসনে একাধিক ছোট দল বড় দলের সঙ্গে সমন্বয় না করায় ভোট বিভাজন ঘটেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল ও কিছু স্বতন্ত্র সদস্য। বাকি ৪২ দলের জন্য এবারের নির্বাচন নিঃসন্দেহে হতাশার অধ্যায় হয়ে রইল। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব দল নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠন শক্তিশালী করার সুযোগ পেয়েছে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কেবল জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; বরং এটি রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তি-দুর্বলতার মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এবারের নির্বাচনের ফলাফল বড় দলগুলোর শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে, পাশাপাশি ছোট দলগুলোর জন্য আত্মসমালোচনা ও পুনর্গঠনের বার্তা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ৪২টি দলের শূন্য ফলাফল যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি ৯টি দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়াও আগামী রাজনৈতিক পর্বের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর