স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি ককটেল তৈরি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বাড়ির আংশিক ধ্বংসাবস্থা দেখতে পান। ইটের দেয়ালের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে এবং টিনের ছাউনি ছিটকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত তিনজন হলেন সদর উপজেলার পাঠাপাড়া গ্রামের মিনহাজ (৫২) ও বজলুর রহমান (২০) এবং রানীহাটির ধুমী গ্রামের মো. শুভ (২০)।
বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, ঘরের ভেতরে ককটেল তৈরি করার সময় অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণটি ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে তারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। প্রথমে তারা ভূমিকম্প বা অন্য কোনো বড় দুর্ঘটনা হয়েছে বলে মনে করেন। পরে বাইরে এসে দেখেন একটি বাড়ির দেয়াল ধসে পড়েছে এবং টিনের চাল উড়ে গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।