আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকার নাহিদুল ইসলাম জনি, মোবারক হোসেন বেপারী, জনি গাজী, মনির ও ফাহিম। তাদেরকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত ও আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
নির্বাচন চলাকালীন সময়ে চাঁদপুর পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ চলাকালীন এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আরও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে।
নবনির্বাচিত এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর শান্তি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখাই তার মূল অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, দলীয় যে কোনো কর্মীর কারণে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তিনি ন্যায়নিষ্ঠভাবে ব্যবস্থা নেবেন। পাঁচজনকে পুলিশে সোপর্দ করার বিষয়টিও সেই নীতির অংশ। এমপি আশা প্রকাশ করেছেন, এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভোটপরবর্তী পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
স্থানীয়দের মতে, চাঁদপুর-৩ আসনের নির্বাচন আগেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের কারণে নজর কাড়ছিল। ভোটের দিন ও পরের দিন উভয় দিনে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় প্রশাসনকে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হয়। এই নির্বাচনে বিজয়ী এমপি নিজ দলের কর্মীদেরও আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনার মাধ্যমে দায়িত্বশীলতার নজির স্থাপন করেছেন।
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. ফয়েজ আহমেদ আরও বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সাধারণ জনগণ ও নির্বাচনের অংশগ্রহণকারীদের শান্তি বজায় রাখার জন্য সতর্ক করেছেন।
নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনী সহিংসতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও নবনির্বাচিত এমপি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন যাতে চাঁদপুর-৩ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।