ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই দুই আসনের জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা থাকায় ফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে না।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা বজায় রেখেছেন। ইসি সচিবালয় থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ থেকে উদ্ধৃত) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে না।
চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরও একই অবস্থায় আছেন। আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ থেকে উদ্ধৃত) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম। কিন্তু মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশও স্থগিত থাকবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, আদালতে দায়েরকৃত মামলার কারণে ফলাফল স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা বিদ্যমান। এই বাধ্যবাধকতা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর হবে, যাতে আইনগত জটিলতা বা আপিলের ফলে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের দুইটি আসনের প্রার্থী সকল নির্বাচনী নিয়মাবলী মেনে নির্বাচন করেছেন। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে সক্ষম, কিন্তু আদালতে দায়েরকৃত মামলার কারণে ফলাফল প্রকাশে বাধা রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফল যথাযথভাবে ঘোষণা করা হবে।
চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল প্রকাশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, আইনি জটিলতা থাকায় ফলাফল স্থগিত রাখা উচিত। অন্যদিকে কিছু নির্বাচনী বিশ্লেষক বলছেন, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
নির্বাচন কমিশন বলেছে, আইন মেনে এবং সকল পক্ষের সমন্বয় নিশ্চিত করে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ফল প্রকাশ স্থগিত থাকা সময়ও আসনগুলোর জন্য যথাযথ পর্যবেক্ষণ চলবে। কমিশন আশা প্রকাশ করেছে যে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের অংশ হবে।
চট্টগ্রামের এই দুই আসন ছাড়াও দেশের অন্যান্য আসনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশন সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলে তা দেশের সকল নির্বাচনী এলাকা ও জনসাধারণের জন্য আইনসঙ্গত ও স্বচ্ছভাবে জানানো হবে।