যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও পারমাণবিক চুক্তি সংক্রান্ত চাপ বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানকে আগামী মার্চের মধ্যেই চুক্তিতে আসতে হবে। কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের মতে, সামরিক অভিযান আগের তুলনায় আরও বিধ্বংসী হবে এবং এটি ইরানকে পুরোপুরি স্তব্ধ করতে সক্ষম। হোয়াইট হাউসে শুক্রবার এক বক্তব্যের সময় তিনি নিশ্চিত করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য পেন্টাগনকে একটি বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন রণতরিটি পূর্বে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দেবে।
এই বিশাল সামরিক সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা। পেন্টাগন ইতিমধ্যেই শক্তিমত্তা বৃদ্ধি করেছে। পারস্য উপসাগরে আগেই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন ছিল, এবার তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।
মার্কিন হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইরান নতি স্বীকার করছে না। উপগ্রহের ছবি থেকে দেখা গেছে, কোলাং গাজ লা পাহাড়ের নিচে তাদের গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আরও মজবুত করছে তেহরান। বিমান হামলা থেকে রক্ষা পেতে টানেলের মুখে কংক্রিটের ঢালাই ও মাটির আস্তরণ দেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো কেবল মেরামতই হয়নি, বরং আরও সুরক্ষিত স্থানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালানো হচ্ছে।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেও জড়িয়েছে দুই দেশ। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি হিট লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সাতজনের ছবির ওপর লক্ষ্যভেদের চিহ্ন রয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সাধারণ ইরানিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নেতানিয়াহু তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তি করার অগ্রাধিকার দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, কিন্তু কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই জানিয়েছে, কূটনৈতিক পথ অব্যাহত রাখা হবে। তবে পরবর্তী আলোচনা কবে হবে, তা এখনও জানা যায়নি। তেহরান ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে, যাতে ইসরায়েলি পদক্ষেপ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত না করে।
মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের রেষারেষি অরাজনৈতিক দেশগুলোর উদ্বেগও বাড়াচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে এই উত্তেজনা একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা।