আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে। এ উপলক্ষে ১৩ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। এছাড়া চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানের সরকারপ্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে এ আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আমন্ত্রণ পেলেও নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তার আগে থেকেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ–এর সঙ্গে তার বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। ফলে তার পরিবর্তে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট সিপি রাধাকৃষ্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ভূরাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ নতুন নেতৃত্ব আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সমান কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছর ধরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও শুক্রবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের টেলিফোনে কথা হয়েছে। ওই আলাপচারিতায় মোদি তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের সরকার গঠন একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র পতনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর দলটি আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হওয়ায় তা আন্তর্জাতিক মহলে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এ শপথ অনুষ্ঠান শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। নতুন সরকার আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: এনডিটিভি