তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জামায়াত আমিরের কার্যালয়ের সামনে দুই দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। পুরো এলাকা ঘিরে ছিল নিরাপত্তা বেষ্টনী।
এর আগে শনিবার বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তারেক রহমান সাক্ষাৎ করবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী রোববারের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও সমন্বয় নিয়েই এই বৈঠক গুরুত্ব পাচ্ছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
দুই পক্ষের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। নির্বাচন, সরকার গঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে দুই বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বৈঠকের আগে ও পরে উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন নজর রয়েছে এই সাক্ষাতের সম্ভাব্য প্রভাবের দিকে। ভবিষ্যতে দুই দলের সম্পর্ক ও রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো পরিবর্তন আসে কিনা, সেটিই দেখার বিষয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলোচনার পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যের ভিত্তিতেই বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।