ইউরোপ এখন নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা আর পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে চায় না। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পর ইউরোপে উদ্বেগ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি ন্যাটো জোটের ভবিষ্যতকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, “ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে ইউরোপ মার্কিন নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে।
সম্মেলনে মার্কো রুবিও ইউরোপকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে তার বক্তব্যে ন্যাটো, রাশিয়া বা ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। ফলে ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় থাকা সত্ত্বেও ইউরোপকে নিজস্ব কৌশল নিতে হবে।
ইউরোপের নেতারা যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জার্মানি ও ফ্রান্স ইউরোপের জন্য একটি পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফ্রান্স বর্তমানে একমাত্র দেশ যা স্বাধীন পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রাখে। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। ন্যাটো সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২% থেকে বাড়িয়ে ৩.৫% করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কিছু ইউরোপীয় দেশ যৌথভাবে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রকল্প শুরু করেছে। এই পদক্ষেপগুলো রাশিয়ার সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, “গত মাসে ইউক্রেনের ওপর হাজার হাজার ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।” এই পরিস্থিতি ইউরোপকে নিজস্ব সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ইউরোপের নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল ন্যাটো জোটের কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করবে। দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোকে অনেক বেশি স্বনির্ভর ও আধুনিক সামরিক সক্ষমতা সম্পন্ন দেখতে পাওয়া যাবে।
আকাশজমিন / আরআর