মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ এলাকার মিলিটারি চকের কাঁশবন থেকে ২০ দিন পর অটোচালক শাকিলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রাজন শেখ (২৫), ইমরান সরকার (১৯), শরীফ সুলতান ওরফে আফসু (২৫) এবং মো. ইউসুফ গাজী (৬০)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম জানান, শরীফ জুয়া খেলায় তার ফুফাতো ভাই সুরজের কাছে ঋণগ্রস্ত হন। ঋণ শোধের জন্য তিনি রাজন ও ইমরানকে নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্বপরিচিত অটোচালক শাকিলকে টার্গেট করা হয়।
গত ২৭ জানুয়ারি তারা শাকিলকে ভাড়া করে বিভিন্ন স্থান ঘুরে নির্জন চরে নিয়ে যায়। সেখানে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ কাঁশবনে ফেলে তারা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর অটোরিকশা খণ্ডিত করে ২০ হাজার টাকায় চতুর্থ আসামি ইউসুফ গাজীর কাছে বিক্রি করা হয়। নিহতের মোবাইল ফোনও ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
পুলিশ জানায়, শরীফ ওরফে আফসুই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
স্থানীয়রা ১৫ ফেব্রুয়ারি কাঁশবনে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। স্বজনরা মরদেহে থাকা প্যান্ট, শার্ট ও বেল্ট দেখে শাকিলকে শনাক্ত করেন।
নিহতের বাবা শাহীন খালাসি সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি এবং মোবাইল ফোনের সূত্রে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার ও অটোরিকশার খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
জানা যায়, শাকিল হত্যাকাণ্ডের খবরে স্থানীয়রা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবির, মুন্সীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।