ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

জ্যোতির্বিদরা বলছেন চাঁদ দেখা যাবে না

সৌদির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা বুধবার


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৮:২১ পিএম

সৌদি আরবের উম্ম আল-কুরা দাপ্তরিক হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রমজানের প্রথম দিন। তবে প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।

গত কয়েক বছর ধরে অভিযোগ উঠছে, সৌদি সরকার তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে থাকে, চাঁদ দেখা হয়নি বা দেখা যাচ্ছে না এমন তথ্য উপেক্ষা করে। ২০২৫ সালের রমজান এবং ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময়ও এই বিতর্ক দেখা দিয়েছিল।

মুসলিমরা চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করেন। চন্দ্রবর্ষে ১২টি মাস থাকে, প্রতিটি মাস ২৯ বা ৩০ দিন। রমজান শেষ হওয়ার তারিখও চাঁদ দেখা নির্ভরশীল। বিশ্বের কিছু দেশে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখে রমজান শুরু করা হয়। অন্য দেশ সৌদির ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে।

যুক্তরাজ্যেও কোনো চাঁদ দেখা কমিটি নেই। যুক্তরাজ্যের মুসল্লিরা সৌদি ঘোষণা অনুসরণ করে। যদিও বিশেষজ্ঞরা এটিকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বলে স্বীকৃতি দেয় না।

বিগত বছরের উদাহরণ: ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল সৌদি আরব ঈদ চাঁদ অনুসন্ধান করেছিল। কুয়েতের জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন বলেছিলেন, চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তবে সৌদি ঘোষণা দিয়েছিল ঈদ ২১ এপ্রিল হবে। তখন অনেক পর্যবেক্ষক সৌদির কাছ থেকে চাঁদ দেখা প্রমাণ চেয়েছিলেন। সৌদির জ্যোতির্বিদ মুলহাম আল-হিন্দি একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা চাঁদের ছবি প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালের ৬ জুনও সৌদি আরব চাঁদ দেখা দাবি করে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছিল। জ্যোতির্বিদরা বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদ দেখা সম্ভব নয় বলেছিল।

নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি নামের বিশেষজ্ঞ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ বলেন, “বৈজ্ঞানিকভাবে যেখানে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়, সৌদি সেখানে চাঁদ দেখা তথ্য দিতে চায়। এটি নিয়মিত ঘটে এবং তারা উম্ম আল-কুরা বর্ষপঞ্জিকার সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতি বছর নির্দিষ্ট এলাকায় দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি চাঁদ দেখার দাবি করেন, বাকি কেউ দাবি করে না। সৌদি একাধিকবার এই কৌশল ব্যবহার করে।”

এদিকে সৌদি ছাড়া তুরস্কও ঈদের তারিখ হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে নির্ধারণ করে। তবে তারা স্বচ্ছভাবে ঘোষণা দেয়। তারা চাঁদ দেখার দাবি করে না, বরং হিসাব অনুযায়ী সিদ্ধান্ত জানায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মুসলিম বিশ্বের চাঁদ দেখা ও হিসাব-নিকাশের ব্যবধান বড় বিতর্কের কারণ। প্রতিবছর রমজান ও ঈদুল ফিতরের তারিখ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক আলোচনা হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর