ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃষক কার্ড বণ্টন নিয়ে কাজ শুরু করবো : কৃষি প্রতিমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:২৬ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

সরকারে গেলে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা প্রদানের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড বণ্টন কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সূচনালগ্নেই কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “আজ প্রথম অফিস শুরু করতে যাচ্ছি। যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, সেসব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ শুরু করবো। কৃষক কার্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। কীভাবে কৃষক কার্ড বণ্টন শুরু করা যায় এবং কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়—সে বিষয়েই আমরা পরিকল্পনা নেব।”

তিনি জানান, কৃষিখাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুসংগঠিত নীতিমালা প্রয়োজন। কৃষক কার্ড সেই প্রক্রিয়ায় একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার, মানসম্মত বীজ এবং কীটনাশক নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই হবে এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা সুশৃঙ্খলভাবে প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা কৃষিবিমার আওতায় আসতে পারবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসলহানির ক্ষেত্রে বিমা সুবিধা পেলে কৃষকের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি কৃষিঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হলে কৃষকেরা মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য—এই তিনটি খাত পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর ডাটাবেইস তৈরি, প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছ বণ্টন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কল্যাণে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বাড়ানো এবং টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর