ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বহুমুখী সংক্রমণ : প্রস্তুতি ও নজরদারি জোরদারের আহ্বান


চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বহুমুখী সংক্রমণ : প্রস্তুতি ও নজরদারি জোরদারের আহ্বান

  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৮:৩৫ পিএম

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে একই সময়ে ভাইরাসের একাধিক ধরন (সেরোটাইপ) শনাক্ত হওয়ার হার বেড়েছে। ২০২৫ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বন্দরনগরীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডেঙ্গু রোগীর শরীরে একাধিক সেরোটাইপের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘কো-সংক্রমণ’ পরিস্থিতি ডেঙ্গু চিকিৎসা ও রোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ-এর মাইক্রোবায়োলজি ও মেডিসিন বিভাগ টানা ছয় মাস ধরে ২২৩ জন নিশ্চিত ডেঙ্গু রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে এই তথ্য পেয়েছে। গবেষণাপত্রটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রি-প্রিন্ট প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে এবং একটি স্বীকৃত পিয়ার-রিভিউড জার্নালে পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রজত শংকর রায় বিশ্বাস। এতে যুক্ত ছিলেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সিনিয়র ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট তমাল মোহরার, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ-এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহবুব হাসান এবং অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কান্তি বিশ্বাস।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ডেন-২ সেরোটাইপ সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে, যার হার ৭৩ দশমিক ১ শতাংশ। ডেন-৩ পাওয়া গেছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডেন-১ শনাক্ত হয়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ রোগীর শরীরে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেন-২ ও ডেন-৩ একসঙ্গে পাওয়া গেছে মোট রোগীর ১৪ দশমিক ৩ শতাংশের শরীরে। ডেন-১ ও ডেন-২ একত্রে পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে। খুব অল্প সংখ্যক রোগীর মধ্যে তিনটি সেরোটাইপ একসঙ্গে শনাক্ত হয়েছে, যার হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। ডেন-৩ ও ডেন-৪ একত্রে পাওয়া গেছে আরও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো ২০২৫ সালেও ডেন-২ প্রাধান্য ধরে রেখেছে। তবে চলতি সময়ে ডেন-৩ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডেন-২-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে কো-সংক্রমণের হার বাড়িয়েছে। সেরোটাইপের এই পরিবর্তন ও ‘টুইস্টিং’ ভবিষ্যতে রোগের তীব্রতা বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত রোগীদের মধ্যে ১১৩ জন পুরুষ ও ১১০ জন নারী ছিলেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের হার ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ১৩ থেকে ২০ বছর বয়সীদের হার ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৬১ বছরের বেশি বয়সীদের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ভাইরাসের মাত্রা বিশ্লেষণে নারী ও পুরুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক সেরোটাইপের সক্রিয় উপস্থিতি এবং সারা বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ চলমান থাকা কো-সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বর্তমানে ডেন-১ ও ডেন-৪ কম শনাক্ত হলেও ভবিষ্যতে এগুলো পুনরায় বিস্তার লাভ করলে ‘সেকেন্ডারি সংক্রমণ’-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার এবং নিয়মিত সেরোটাইপ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখার সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর