ক্ষতিগ্রস্ত রাশিদুল আকনের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ায় তিনি ও তার সহযোগীরা হামলার শিকার হন। তার দাবি, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাশির উদ্দিন, সাহাবুদ্দিন, নিজাম আকন ও নেওয়াজ তাদের মারধর করে দোকান বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ওই বিরোধের জের ধরে দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানো হয়।
জানা গেছে, সোনাখালী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় রাশিদুল আকনের মুদিমনোহরী, আল আমিন ফার্মেসী ও স্বপন দাশের সেলুনে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আগুন লাগে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
একই রাতে হলদিয়া ইউনিয়নের জুলেখার স্লুইজ সংলগ্ন এলাকায় লতিফ হাওলাদারের মুদিমনোহরী ও কীটনাশক দোকানে আগুন দেওয়া হয়। ওই দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে বলে তিনি জানান। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ নাশির উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, দোকান মালিকদের সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারির ঘটনা পারিবারিক ছিল এবং সেখানে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত নয়। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা তিনি জানেন না বলে জানান।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউস ইন্সেপেক্টর মোঃ হানিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।