ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুটুক্তি

সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা, অভিযুক্ত এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:০৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, ব্যাঙ্গচিত্র ও মিথ্যা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে সম্মানহানির অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি মাজার রোড এলাকার বাসিন্দা কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ০৭/২৬। অভিযোগ উঠেছে, মামলা দায়েরের পরও ফতুল্লা থানা পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, কামাল প্রধান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির চেষ্টা করছেন। তিনি একাধিকবার জেলহাজতে ছিলেন এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবেও তার রেকর্ড রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রায় ২৫টির বেশি মামলা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২৩ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জকে লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যার অপরাধ শাখার স্মারক নম্বর ৯৪৯। এরপরও আসামিকে গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন।

এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় আগে দায়ের করা অভিযোগকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যার জিডি নম্বর ৫৭৪। পরে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ৩২(১)(ক) ধারায় মামলা রুজু হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত গ্রেফতার ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কামাল প্রধান বিভিন্ন ফেক আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কামাল প্রধান বন্দর থানার বাগবাড়ি এলাকার আবুল প্রধানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি মামলায় তিনি সাজাও পেয়েছেন এবং বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই ধরনের কার্যকলাপে জড়িত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির এক কর্মী জানান, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কটাক্ষ ও অপপ্রচার চালানোর পরও কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর। অভিযোগকারীরা মনে করছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে থানা পুলিশের কোনো অঘোষিত সখ্যতার কারণে গ্রেফতার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

গ্রেফতার প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও লিখিত আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ, মামলার আদেশ কপি, অপপ্রচারের স্ক্রিনশটসহ প্রমাণাদি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—চিহ্নিত ও মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও কেন কামাল প্রধান এখনো গ্রেফতার হননি? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কি না—সেই অপেক্ষায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সাইবার অপরাধ দমন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর