অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তারিকুল ইসলাম। তিনি ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৪৪ ব্যাচের (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ) সাবেক শিক্ষার্থী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৯৯৯–এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি শিক্ষার্থী কল্যাণ উপদেষ্টা ছন্দা খাতুনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ছন্দা খাতুন জানান, অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ভেঙে যায়। মঙ্গলবার অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের সামনে এসে শেষবারের মতো কথা বলার কথা বলে তাকে বাসায় যেতে চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে ইফতারসামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী বাসায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত তার মুখে টেপ লাগিয়ে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী পুড়ে যাওয়া স্থানে চিকিৎসা নিতে বাইরে যেতে চাইলে অভিযুক্ত কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। পরে ছাত্রী ৯৯৯–এ কল করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, ছাত্রীটির হাতের তিন থেকে চার সেন্টিমিটার অংশ পুড়ে গেছে। পূর্ণাঙ্গ বার্ন চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, ঘটনাটি সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে তিনি জেনেছেন। তবে লিখিত অভিযোগ এখনো পাননি। বিষয়টি ব্যক্তিগত হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।