ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইফতার-সেহরির আগমুহূর্তে কোন দোয়া পড়বেন


  • আপলোড সময় : রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৫৩ পিএম

পবিত্র রমজান মাস মুমিনদের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত ও রহমতের মাস। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরির সময়কে দোয়া কবুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সঠিক দোয়া ও এর গুরুত্ব না জানার কারণে অনেকেই এই মূল্যবান সময়গুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেন না।

ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিবেচনায় সূর্যাস্তের ঠিক আগের সময়টুকু অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইফতারের মুহূর্তটি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়।

ইফতার শুরু করার আগে পড়ার দোয়া হলো: “اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ”। উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই রোজা রেখেছিলাম এবং আপনার দেওয়া রিজিক দ্বারাই ইফতার করলাম। (আবু দাউদ)।

ইফতার শেষে পড়ার দোয়া: “ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ”। উচ্চারণ: জাহাবাজ জমাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুক্বু ওয়া ছাবাতাল আজরু, ইনশাআল্লাহ। অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সতেজ হলো, ইনশাআল্লাহ সওয়াব নির্ধারিত হলো। (আবু দাউদ)।

রমজানের শেষ রাতের ইবাদতও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। নবী করিম (সা.) বলেছেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন—কে আছে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে দান করব। কে আছে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)। এ সময় ইবাদত, ইস্তেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

সেহরির সময়ও অত্যন্ত বরকতময়। সেহরির আগে বা পরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম আমল। এ সময় মনের গভীর আকুতি ও প্রার্থনা আল্লাহর কাছে পেশ করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রোজার নিয়ত অন্তরের সংকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে অনেকে মুখেও নিয়ত পাঠ করেন। আরবি নিয়ত: “نَوَيْتُ اَنْ اَصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اَللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ”। উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আসুমা গাদান মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম। অর্থ: হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা, ধীরস্থিরভাবে দোয়া করা এবং অন্যকে ইফতার করানোর চেষ্টা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।


এ সম্পর্কিত আরো খবর