ধীরে ধীরে বিশ্ব রপ্তানি বাজারে অবস্থান হারাচ্ছে ভারতের বস্ত্র খাত। বিপরীতে বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি সাফল্য। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ইন্ডিয়া-ইইউ ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এটি ভারতের বস্ত্রশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়।
বস্ত্র ভ্যালু চেইনে ভারতের রপ্তানি ইউরোপীয় ইউনিয়নে এখনও মূলত মধ্যবর্তী পণ্যে সীমাবদ্ধ, বিশেষ করে সুতা ও কাপড়। প্রস্তুত পোশাকে যেমন টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্টের ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে বাংলাদেশ নিট বা ক্রোশে পোশাক এবং ওভেন পোশাকে ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে। নিট পোশাকে যেমন টি-শার্ট, জার্সি, পুলওভার, সোয়েটার, কর্ডিগান; ওভেন পোশাকে যেমন স্যুট, জ্যাকেট, প্যান্ট, ড্রেস ও শার্ট।
পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট আমদানিতে নিট পোশাকে ভারতের অংশীদারত্ব ২০০৯ সালে ৬.৫ শতাংশ ছিল, যা ২০২৩ সালে কমে ৪.৪ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ২০০০ সালে ৬ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ২৬ শতাংশে বৃদ্ধি পায়। ওভেন পোশাকেও একই চিত্র। ইউরোপে ভারতের রপ্তানি মূল্য সর্বোচ্চ ৩.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২.৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
ভারতীয় পোশাক ইউরোপীয় বাজারে পিছিয়ে আছে মূলত উচ্চ একক মূল্য ও কম সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে। ভারতের উৎপাদন খরচ বেশি এবং লজিস্টিক ও সরবরাহ শৃঙ্খল কম দক্ষ। অন্যদিকে বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে ইইউর Everything But Arms (EBA) কর্মসূচির আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশ যে কোনও দেশ থেকে কাপড় আমদানি করে শূন্য শুল্কে ইউরোপে রপ্তানি করতে পারে, কিন্তু ভারতকে ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।
ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ২০২৯ সালে বাংলাদেশ EBA সুবিধা হারালে পোশাক রপ্তানিতে প্রায় ১২ শতাংশ এমএফএন শুল্ক আরোপ হতে পারে। এরপর জিএসপি প্লাসে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করবে, যেখানে উৎস নিয়ম ও সুরক্ষা বিধান কঠোর। বাংলাদেশ অনেকাংশে ভারতীয় কাপড়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জিএসপি প্লাসের কঠোর নিয়ম মানা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ইইউ-ভারত চুক্তির মাধ্যমে ভারত ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে, তবে ডাবল-স্টেজ প্রসেসিং শর্ত সাপেক্ষে। ভারতের বস্ত্রখাত উল্লম্বভাবে সমন্বিত, ফলে ডাবল-স্টেজ শর্ত বড় বাধা নয়।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি একটি বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার সুবিধা কমতে পারে, ভারতকে শুল্ক সুবিধা বেশি হচ্ছে। ভারতের বস্ত্রশিল্পে উৎপাদন খরচ কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান, উল্লম্ব সমন্বয় ও সুসংগঠিত শিল্পনীতি গ্রহণ করলে তারা ইউরোপীয় বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২০ সালে ইইউ-ভিয়েতনাম ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের অভিজ্ঞতা এই সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু
আকাশজমিন / আরআর