আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
আমতলীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ২০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৮ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার ঘোপখালী গ্রামে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায়।
স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল খালেক চৌকিদার ও রহমান আকনের মধ্যে এক একর ৫৪ শতাংশ জমি নিয়ে গত এক বছর ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় রহমান আকন তার লোকজন নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আব্দুল খালেক বাঁধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি শুরু হয়। সংঘর্ষ কয়েক দফায় চলতে থাকে এবং এতে উভয় পক্ষের মোট ২০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো: আব্দুল খালেক চৌকিদার (৫৫), ইমরান চৌকিদার (২০), মালেক চৌকিদার (৫৫), ফরিদ গাজী (৪৮), নুর জাহান (৩৫), আব্দুস সালাম (৩৮), শারমিন (৩০), রুমা (২১), মাকসুদা (৩০), রহমান আকন (৫০), রফিক আকন (৪০), শহিদুল (৪৫), জাহানারা (৪০), মহিবুল্লাহ (২৬) এবং ইউসুফ আকন (৬০)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, গুরুতর আহত খালেক চৌকিদার, মালেক চৌকিদার, ইমরান চৌকিদার, ফরিদ গাজী, মহিবুল্লাহ, রহমান আকন, রফিক আকন ও শহিদুল আকনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত আব্দুল খালেক চৌকিদার বলেন, "আমার জমিতে রহমান আকন তার লোকজন নিয়ে চাষাবাদ করতে আসে। আমি বাঁধা দিলে আমার এবং আমার লোকজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। ৯৯৯ পুলিশকে খবর দিয়েও তারা বিলম্বে আসায় আরও আমাদের লোকজনকে আহত করেছে। এতে আমার পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে।"
অন্যপক্ষে, আহত রহমান আকন বলেন, "জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আব্দুল খালেক চৌকিদারের লোকজন আমাকে ও আমার ৭ জন সহকর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে।"
আমতলী থানা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসকরা সতর্ক হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন যেন পুনরায় কোন সহিংসতা না ঘটে।
আকাশজমিন / আরআর