ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য আন্দোলনকে এক করা ঠিক নয়: মন্ত্রী


  • আপলোড সময় : রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৩৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

মহান মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। ইতিহাসের স্বাতন্ত্র্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধকে তার নিজস্ব মর্যাদায় মূল্যায়ন করতে হবে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধই এই রাষ্ট্রের জন্মের মূল ভিত্তি। স্বাধীনতার জন্য যে সশস্ত্র সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ সংঘটিত হয়েছিল, তার সঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন বা গণআন্দোলনকে এক কাতারে দাঁড় করানো সঙ্গত নয়।” তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক অপব্যবহার হয়েছে, যা জাতির জন্য ক্ষতিকর।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, এ ধরনের অপব্যবহারের ফলে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা কী অসীম ত্যাগ, তিতিক্ষা ও রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন, সেই প্রকৃত ইতিহাস অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। নতুন প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানাতে হলে তথ্যভিত্তিক গবেষণা, নথি সংরক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বা বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চেতনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি নির্ভুল তালিকা ও প্রামাণ্য ইতিহাস গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও আদর্শকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ ও ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জামুকার সদস্যরা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধকে জাতির অস্তিত্ব ও স্বাধীনতার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের স্বকীয়তা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেন রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার না হয়ে জাতীয় ঐক্যের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।



এ সম্পর্কিত আরো খবর