ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

মহাসড়কের পাশে চড়ুই পাখিদের মিলনমেলা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৪০ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ষোলমাইল এলাকায় প্রতিদিন বিকেলে এক অনন্য প্রাকৃতিক মিলনমেলা হয়। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ধারে অবস্থিত ‘হানিফ হাইওয়ে ভিলা’ রেস্তোরাঁর সামনের এলাকা এখন চড়ুই পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। মহাসড়কের ব্যস্ত যানজট, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির শব্দ—সবই যেন ম্লান হয়ে যায় শত শত চড়ুই পাখির সুমধুর কলকাকলিতে।

প্রতিদিন সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পাখিদের বর্ণিল অনুষ্ঠান। বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর বসে হাজারো চড়ুই পাখি দল বেঁধে উড়ে যায় দিগন্তে, আবার ফিরে আসে তাদের প্রিয় ঠিকানায়। এই দৃশ্যের সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি মিলে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। মহাসড়কের যাত্রীরা থমকে দাঁড়িয়ে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছেন। ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যাত্রীরা এই মনোরম চিত্র দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।

শুধু সাধারণ যাত্রীরাই নয়, স্থানীয়রা-ও এই মিলনমেলাকে বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার মোদক জানান, বিকেলের পর আশপাশের মানুষ পরিবার নিয়ে এখানে ভিড় জমান, শুধুমাত্র পাখিদের কিচিরমিচির শোনার জন্য। তিনি বলেন, “যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য এটি এক আদর্শ স্থান।”

পাখিদের নিরাপদ অবস্থানের পেছনে রয়েছে মানুষের মমতা ও সচেতনতা। ‘হানিফ হাইওয়ে ভিলা’ রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে পাখিদের জন্য অঘোষিত ‘অভয়াশ্রম’ হিসেবে গড়ে তুলেছে। রেস্তোরাঁর শিফট ম্যানেজার হায়দার আলম জানান, “আমরা সবসময় নজর রাখি যেন কেউ পাখিদের উত্ত্যক্ত না করে বা ঢিল না মারে। আমাদের লক্ষ্য হলো, সবার সহযোগিতায় পাখিরা এখানে নিরাপদে থাকতে পারুক। এটি আমাদের পরিবেশের অমূল্য সম্পদ।”

রায়গঞ্জের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, মানুষের সদিচ্ছা ও ভালোবাসা থাকলে যান্ত্রিকতার মাঝেও প্রকৃতি তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারে। মহাসড়কের ধারে চড়ুইদের এই মিলনমেলা স্থানীয়দের কাছে প্রাকৃতিক শিক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এছাড়া এটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মানবসমাজের দায়িত্ববোধ ও সচেতনতার প্রতিফলন।

পর্যটক এবং স্থানীয়রা এই অঞ্চলে এসে শুধু পাখির কলকলিই নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ ও শান্তির অনুভূতি উপভোগ করছেন। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং শিশুদের প্রকৃতির সান্নিধ্য শেখাতে এটি আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মহাসড়কের পাশে বসবাসকারী এই চড়ুইদের জন্য রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত খাবার ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করছে। এলাকার বাসিন্দারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এই বর্ণিল মিলনমেলা চলবে এবং এটি রায়গঞ্জের পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ধরে রাখার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আকাশজমিন/  আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর