সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, “আজ আমি দায়িত্ব পেলাম। এই ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম দেখবো। তবে একটি কথা বলতে চাই—যেসব অপরাধীরা বিচারের সম্মুখীন, তাদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা হলো, যারা কোনো অন্যায় করেননি তারা প্রসিকিউশনের মাধ্যমে কোনো হয়রানির শিকার হবেন না। কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের প্রাপ্য সাজা পেতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি উপলব্ধি করেছেন যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি দায়িত্ব। জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নিজের কর্তব্য যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি, সে চেষ্টা করবো। একইসঙ্গে দক্ষতা, মেধা ও জ্ঞান দিয়ে মামলাগুলো পরিচালনা করার চেষ্টা করবো। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
চিফ প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেন, বিচারকার্য পরিচালনায় কারও প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করা হবে না। তিনি বলেন, “কারও প্রতি কোনো বিদ্বেষ থাকবে না। আইনের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালিত হবে। আমাদের মাধ্যমে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা হবে।”
চলমান মামলাগুলোর অগ্রগতি প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিচারের গতি কমার কোনো সুযোগ নেই। বরং প্রসিকিউশনের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনের শাসন সুদৃঢ় হবে এবং জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও কঠোরভাবে পরিচালিত হবে। একইসঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
আকাশজমিন / আরআর