ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

শেরপুরে মাছের প্রজেক্টের রাস্তা কেটে বন্ধ, ক্ষতির মুখে মৎস্যচাষী


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:২৯ পিএম

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের লয়খা গ্রামে একটি মাছের প্রজেক্টে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি কেটে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ছয়টি পুকুরভিত্তিক মাছের খামারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৎস্যচাষী শফিকুল ইসলাম রহিম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লয়খা মোল্লা বাড়ির দক্ষিণ পাশে পরিষদের রাস্তা থেকে পূর্ব দিকে জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সম্মতিক্রমে নিজ অর্থায়নে ভ্যান চলাচলের উপযোগী একটি রাস্তা নির্মাণ করেন মো. আব্দুল করিম দুদু ও তার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তা ব্যবহার করে চারটি মাছের প্রজেক্টে খাদ্য সরবরাহ ও উৎপাদিত মাছ পরিবহন করা হয়ে আসছিল। সময়ের সঙ্গে স্থানীয় অনেক মানুষও রাস্তাটি ব্যবহার করতে শুরু করেন।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, একই এলাকার মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে মো. হবিবুর রহমান হবি (৬০) তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সম্প্রতি রাস্তাটি কেটে গর্ত করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

মৎস্যচাষী শফিকুল ইসলাম রহিম জানান, তার মোট ছয়টি পুকুর রয়েছে। প্রতিদিন মাছের খাদ্য আনা এবং উৎপাদিত মাছ বাজারজাত করার জন্য এই রাস্তাটিই একমাত্র ভরসা। কিন্তু রাস্তার অর্ধেক অংশ কেটে গর্ত করে দেওয়ায় কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে মাছের খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং সময়মতো বাজারে মাছ নিতে না পারায় তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চলতি মাসে হবিবুর রহমান হবির নির্দেশে তার পুত্রবধূ লিজা প্রকাশ্যে রাস্তাটি কেটে গর্ত করেন, যাতে সরু দু’পায়ের আইল ছাড়া অন্য কোনোভাবে প্রজেক্টে মালামাল পরিবহন সম্ভব না হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হবিবুর রহমান হবি বলেন, “আমি ইউসুফ মেম্বারের মরহুম বাবা মনির উদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে জমিটি কিনেছি। আমার ক্রয়কৃত জমি শফিকুল গংরা বেদখল করেছে। তাই আমার জমির ওপর দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিগত রাস্তার একপাশে মাটি খনন করেছি। জমি ছেড়ে না দিলে পুরো রাস্তা ব্যবহার করতে দেব না।”

এ প্রসঙ্গে হাতিবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে একাধিকবার আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একপক্ষের অসহযোগিতার কারণে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম রহিম বলেন, “রাস্তাটি দ্রুত খুলে দেওয়া না হলে আমার মাছের প্রজেক্টে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।” তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর