আইন অঙ্গনে অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের ভিত্তিতেই তাদের নাম আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ হওয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ নিয়ে আইনজীবী মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্ট বারের একাধিকবার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন অঙ্গনে তার সাংগঠনিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আদালতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের পরিচিত মুখ। তার বাবা ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরী। শিক্ষাজীবনে তিনি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরে যুক্তরাজ্যের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করেন। পাশাপাশি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে তিনি তার পেশাগত অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এদিকে, গত ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন এবং আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা পদটি শূন্য হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সংবিধান ও আইন বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেন। দেশের বিচারব্যবস্থা ও নীতিনির্ধারণে এ পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
চলতি সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।