গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় তিন যানবাহনের সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কের মন্দুয়ার শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফ বাজিত গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে ও অটোরিকশা চালক আল আমিন মিয়া (৩০) এবং গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়ার নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে অটোরিকশার যাত্রী গৌতম চন্দ্র (৬০)। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলা শহর থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান গাইবান্ধা শহরের দিকে যাচ্ছিল। মন্দুয়ার শাহানা ফিলিং স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে একটি সিএনজিকে সাইড দিতে গিয়ে ভ্যানটি একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয় এবং আরও চারজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক পালাতক রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী জানান, ওই সড়কে দ্রুতগতির যান চলাচল ও নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারির অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা মরদেহ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আকাশজমিন / আরআর