ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ : মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৪৪ পিএম

চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আসুরা আক্তার পাখি (৩০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১০টা ৪৭ মিনিটের দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আসুরা আক্তার পাখির বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার রহিমানগর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আবুল বাশারের মেয়ে। বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, পাখি আক্তারের শরীরের শতভাগ দগ্ধ ছিল। এছাড়া তার ইনহেলেশন ইনজুরি (শ্বাসনালিতে দগ্ধজনিত ক্ষতি) ছিল, যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতের দিকে তিনি মারা যান।

এর আগে একই ঘটনায় নুরজাহান আক্তার, তার ছেলে শাওন এবং দেবর সুমনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ পাখি আক্তারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।

এদিকে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আরও পাঁচজন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস লাইনে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের নয়জন দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনে জমে থাকা গ্যাস থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা শোকে স্তব্ধ। চিকিৎসকরা বলছেন, দগ্ধদের চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি। গুরুতর দগ্ধদের বাঁচিয়ে রাখতে নিবিড় পরিচর্যা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।

চট্টগ্রামের এই গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা আবারও আবাসিক ভবনে গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত গ্যাস লাইন পরীক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর