নতুনভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, তাঁর দায়িত্বগ्रहনের পর ব্যাংকিং খাতে ইতোমধ্যেই যেসব সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলো অব্যাহত রাখবেন। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর-এর খাদের কিনারা থেকে অর্থনীতিকে টেনে তোলার উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি এবং সেই কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমগুলো সুসংহত রেখে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি ব্যাংক কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।
গভর্নরের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগে সহযোগিতা প্রদান করা। এর উদ্দেশ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং উৎপাদন বাড়িয়ে আনা। তিনি নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করারও কথা উল্লেখ করেছেন।
মুখপাত্র আরও বলেন, নতুন গভর্নর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বণ্টন বা ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বাড়িয়ে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিষ্ঠান আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।
গভর্নর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষাকে অগ্রাধিকার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উচ্চ সুদের হার কমিয়ে দিয়ে বিনিয়োগে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, নতুন গভর্নরের প্রথম কাজগুলো ব্যাংকিং খাতে আস্থা বাড়ানো এবং ঋণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও পরিচালনাগত পরিবর্তনগুলোর ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করলে এটি আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া মোব সংক্রান্ত কার্যক্রমে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর। তিনি বলেছেন, যারা যে কেউ “মব” বা অনিয়মমূলক আচরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে মানবসম্পদ নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যান্য বিশ্লেষকরা জানান, নতুন গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়া এবং ইতোমধ্যেই নতুন কর্মদিবসে ব্যাংকের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করা ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের continuity and stability–র দিক থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখাচ্ছে। তারা মনে করেন, স্বাধীনভাবে নীতি গ্রহণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আকাশজমিন / আরআর