হাইকোর্ট নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে চারটি আসনের ওপর দায়ের করা আবেদন গ্রহণ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪ আসনে কারচুপি হয়েছে বলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাইকোর্টে আবেদন করে। অপরদিকে শেরপুর-১ আসনে কারচুপির অভিযোগ এনে আবেদন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল এসব আবেদন গ্রহণ করে তা তদন্তের জন্য আদেশ দিয়েছেন। আদালত একই সঙ্গে ওই আসনগুলোর নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশন (ইসি)-র হেফাজতে রাখার এবং ওই আসনগুলোর বিজয়ী প্রার্থীদের নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এই তথ্য সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগের দিন পরাজিত প্রার্থীরা হাইকোর্টে আবেদন করেন এবং ভোটের ফলাফল পুনঃগণনা ও সংশোধনসহ বিভিন্ন দাবিতে ট্রাইব্যুনালে রিট করেছেন।
ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের ক্ষেত্রে আবেদন করায় জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোট গণনা ও ফলাফল পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। শেরপুর-১ আসনের ক্ষেত্রে বিএনপি প্রবীণ দলের প্রার্থী বা সমর্থকের নামে অভিযোগ করে, সেখানে ভোটের প্রকৃতি ও নির্বাচনী আচরণে অনিয়ম হয়েছে— এমন দাবি আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগের জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত একক বেঞ্চ এসব আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করবেন। আদালত মামলার শুনানির জন্য পরবর্তী নির্দেশনার দিন ধার্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোট গ্রহণ ও ফলাফলের ঘোষণা করা হলেও কোনো অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ উঠলে আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা যায়। হাইকোর্ট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রমে এসব অভিযোগের ভিত্তি যাচাই করে প্রয়োজন হলে ফলাফল পুনঃগণনা বা সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারে—এটি দেশীয় নির্বাচনী আইনের একটি অংশ।
সরকার, নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট দুই দলের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চার আসনে আবেদন গ্রহণ হওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ফলাফলের ওপর মানুষের আস্থা ও ইসির প্রতি বিশ্বাসের দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে। আবেদনগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সংবিধান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মন্তব্য করেছেন।