জামালপুর শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকার একটি পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে টিসিবির ১ হাজার ৪৪৪ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। একটি গর্তে বিশেষ কায়দায় ইট দিয়ে ঢেকে এসব তেল গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১ মার্চ) বিকেলে র্যাব-১৪ ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘নূর রাইস মিলের’ পরিত্যক্ত গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি গর্ত খুঁড়ে ইট দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় টিসিবির ৭২২ বোতল ভোজ্য তেল উদ্ধার করা হয়। প্রতি বোতলে ২ লিটার করে থাকায় মোট তেলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৪৪ লিটার।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার হওয়া বোতলগুলোর অধিকাংশ থেকেই টিসিবির মোড়ক তুলে ফেলা হয়েছিল। বোতলের মুখের প্লাস্টিক সিলও খুলে নেওয়া হয়, যাতে এগুলো সাধারণ বাজারজাত পণ্য হিসেবে বিক্রি করা যায়। তবে কয়েকটি বোতলে এখনও টিসিবির মোড়কের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও অনেক বোতল আগেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
র্যাব-১৪ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিব বলেন, “আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এখানে অভিযান পরিচালনা করেছি। প্রতিটি বোতল থেকে টিসিবির মোড়ক তুলে ফেলা হয়েছে। বোতলের মুখের দিকে প্লাস্টিক তুলে ফেলা হয়েছে। তবুও কয়েকটি বোতলে এসব মোড়ক আছে। আরও অনেক বোতল বিক্রি করে ফেলা হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুরো চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে উদ্ধার করা তেল জব্দ করে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুর ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনায় আমরা দুইজনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আমরা অনেক কিছু বলতে পারছি না। এই বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত গোডাউনটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। সেখানে টিসিবির পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রমজানকে সামনে রেখে টিসিবি সাশ্রয়ী মূল্যে তেল, ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ অবস্থায় টিসিবির পণ্য গোপনে মজুত করে রাখার ঘটনা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।