সোমবার (২ মার্চ) ভোরে বাহরাইনের একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিকালীন সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নিহত মো. তারেক দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতেন। তার আয়ে পরিবার চলত এবং সন্তানের পড়াশোনাসহ যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ হতো। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের ফুফাতো ভাই মোশারফ হোসেন, যিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত। মোশারফ হোসেন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে মুহ্যমান এবং মরদেহ দ্রুত দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হামলার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিহত মো. তারেকের পরিবার তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের প্রস্তুতি নিতে চায়। এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।