ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত বিএনপির ২ কর্মী


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৪৯ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন বিএনপির সক্রিয় কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন— মৃত ময়দান আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৬০) এবং মৃত মনছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০)। স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারা দুজনই বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গোয়ালপাড়া গ্রামের প্রায় পাঁচ বিঘা সরকারি খাস পুকুরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আছমত আলী (৫০) এবং ধামাইনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৮) এর মধ্যে প্রায় ১৫–১৬ বছর ধরে ইজারা ও দখল নিয়ে বিবাদ চলছিল।

দীর্ঘদিন পুকুরটি স্থানীয় মসজিদের নামে আছমত আলী মাছ চাষ করলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর সিদ্দিক তিন বছরের জন্য পুকুরটির নতুন ইজারা নেন। সোমবার সকালে সিদ্দিকের সমর্থকরা পুকুরে মাছ আহরণের জন্য জাল ফেললে আছমত আলীর লোকজন বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ধারাল অস্ত্র, দা, হাসুয়া ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হন।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সালাম সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং ইসমাইল হোসেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে মারা যান।

রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শামসুল আলম বলেন, “নিহত দুজনই আমাদের সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘদিনের দখলবাজি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই হামলা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে যথাসময়ে চিকিৎসা পেলে হয়তো একজনের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো।

তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আকিকুন নাহার। তিনি বলেন, “রোগীকে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। মারপিটের আঘাতে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।”

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি খাস পুকুরের ইজারা ও দখলদারিত্ব নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রায়গঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে খাস পুকুরের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে তদন্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, একই পুকুরকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালেও এক ব্যক্তি নিহত হন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।


এ সম্পর্কিত আরো খবর