ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: ব্লাড ওয়ার্ম মুন দর্শনীয়


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪০ পিএম

২০২৬ সালের ৩ মার্চ একটি অসাধারণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আজ পূর্ণিমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিলবে চন্দ্রগ্রহণের। নাসা জানিয়েছে, আজকের পূর্ণিমা রাতে আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’। এটি আসলে একটি বিশেষ রক্তিম চাঁদ, যা পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় গাঢ় লাল বা তামাটে আভা ধারণ করে। যদি আজ আকাশে চোখ না রাখা যায়, তবে পরবর্তী সুযোগ হবে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ব্লাড ওয়ার্ম মুন: বসন্তের চাঁদ

মার্চ মাসের পূর্ণিমাকে ঐতিহ্য অনুযায়ী বলা হয় ‘ওয়ার্ম মুন’। বসন্তের শুরুতে মাটি উষ্ণ হলে কেঁচো বা পোকামাকড়ের লার্ভা মাটির ওপরে উঠে আসে। কেউ কেউ একে বিটল পোকার শীত শেষে মাটির ওপরে বের হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। এই প্রাকৃতিক ঘটনার সঙ্গে মেলানো হয়েছে ব্লাড ওয়ার্ম মুনের রঙিন দৃশ্য।

‘ব্লাড মুন’ মূলত তখন হয় যখন পূর্ণিমার সময় চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। পৃথিবী সূর্য এবং চাঁদের মধ্যে আসার ফলে চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়ে। এই কারণে চাঁদ লালাভ বা তামাটে আভা ধারণ করে। এই প্রক্রিয়ার ফলে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দর্শকদের জন্য চমকপ্রদ হয়ে ওঠে।

দর্শন ও সময়সূচি

আজকের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলবে। আন্তর্জাতিক সময় (ইউটিসি) অনুযায়ী চন্দ্রগ্রহণের সময় ১১:০৪ থেকে ১২:০৩ পর্যন্ত। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি বিকাল ৫:০৪ থেকে ৬:০৩ পর্যন্ত দৃশ্যমান হবে। চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে প্রাক্কালে, প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে, এবং পুরো গ্রহণ শেষ হবে রাত ৮:২৩ মিনিটে।

চন্দ্রগ্রহণটি সন্ধ্যায় পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় পুরোপুরি দেখা যাবে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এটি সারা রাত দর্শনীয় হবে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাংশে ভোরের দিকে চন্দ্রগ্রহণ সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে। তবে ইউরোপ ও আফ্রিকায় এটি দৃশ্যমান হবে না।

দৃশ্যমানতা ও নিরাপত্তা

চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে নিরাপদে দেখা যায়। সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ চশমার প্রয়োজন নেই। তবে দূরবীন বা টেলিস্কোপ থাকলে লাল আভার সূক্ষ্ম পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব। যারা ছবি তুলতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে ডিএসএলআর ক্যামেরা ব্যবহার করে আইএসও বাড়িয়ে ভালো ছবি তোলা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, প্রতি মাসে পূর্ণিমা হলেও প্রতি মাসে চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে সামান্য কোণকোণ করে কাত থাকে। ফলে বেশিরভাগ সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর সরাসরি পড়ে না। কখনো ছায়া উপরে যায়, কখনো নিচ দিয়ে চলে যায়। কেবল তখনই চন্দ্রগ্রহণ ঘটে, যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় অবস্থান করে। আজ এমনই একটি দিন।

চন্দ্রগ্রহণের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব

ব্লাড ওয়ার্ম মুন শুধু চমকপ্রদ নয়, এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রঙ ও আকারের পরিবর্তন থেকে গ্রহীয় ছায়া ও কক্ষপথের তথ্য নেওয়া যায়। এটি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য একটি বাস্তব ক্ষেত্র তৈরি করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ঘটনা উদযাপন করছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা, পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দর্শকরা সন্ধ্যা থেকে আকাশে নজর রাখছেন। চন্দ্রগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দল স্থানীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও ওয়েবক্যামের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দর্শকরা

উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে চন্দ্রগ্রহণ সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে। এছাড়া পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোও সন্ধ্যায় পুরো গ্রহণ দেখতে পারবে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সারা রাত, এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে ভোরের দিকে দেখা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চলে এটি দেখা যাবে না।

চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের গাঢ় লাল বা তামাটে রঙ আকাশপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। অনেক মানুষ বিশেষ ফটোগ্রাফি বা ভিডিও তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছবি তোলার ক্ষেত্রে ক্যামেরার আইএসও সামান্য বাড়িয়ে নিলে লালাভ চাঁদের সূক্ষ্ম পরিবর্তন সহজে ক্যাপচার করা যায়।

চূড়ান্ত সতর্কতা ও পরামর্শ

চাঁদ দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ। খালি চোখেই এটি নির্ভুলভাবে দেখা সম্ভব। তবে মেঘমুক্ত আকাশের জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে। যারা দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য চন্দ্রগ্রহণের প্রতিটি বিস্তারিত সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ব্লাড মুন বা ব্লাড ওয়ার্ম মুনের সময় চাঁদ এবং পৃথিবীর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ই পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে চমকপ্রদ লালাভ আভা তৈরি করে।

আজকের এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ সারা বিশ্বে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিকদের এবং আকাশপ্রেমীদের জন্য এক বিরল ও আকর্ষণীয় দৃশ্য উপহার দিচ্ছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর